সুপার ওভারে হায়দরাবাদকে হারিয়ে প্লে-অফে মুম্বাই

চেন্নাই সুপার কিংস ও দিল্লি ক্যাপিটালসের পর তৃতীয় দল হিসেবে দ্বাদশ আইপিএলের প্লে-অফে পৌঁছে গেল মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স৷ বৃহস্পতিবার ওয়াংখেড়েয় রুদ্ধশ্বাস লড়াই প্রথমে সুপার ওভারে শেষ হয়৷ শেষ বলে ছক্কা হাঁকিয়ে ম্যাচ টাই করেন দেন মনীশ পাণ্ডে৷

সুপার ওভারে প্রথম ব্যাটিং করে মাত্র ৮ রান তোলে হায়দরাবাদ৷ বুমরাহের প্রথম চার বলে দু’ উইকেট হারানোয় শেষ দু’টি বল খেলতে পারেনি সানরাইজার্স৷ জয়ের জন্য মুম্বইয়ের টার্গেট ৬ বলে ৯ রান৷ ক্রিজে হার্দিক পান্ডিয়া ও কাইরন পোলার্ড৷ বল হাতে রশিদ খান৷ প্রথম বল ছক্কা হাঁকান পান্ডিয়া৷ মাত্র ৩ বলেই ম্যাচ জিতে নেয় মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স৷

রবিবার কেকেআর-এর বিরু্দ্ধে শেষ ম্যাচের আগেই ১৩ ম্যাচে ১৬ পয়েন্ট নিয়ে প্লে-অফের টিকিট হাতে পেয়ে গেল মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স৷ আগের ম্যাচে ইডেনে নাইটদের কাছে পর্যুদস্ত হলেও এদিন ঘরের মাঠে সাইনরাইজার্সের বিরুদ্ধে রানে জয় ছিনিয়ে নেয় রোহিত অ্যান্ড কোং৷ শেষ দু’ ওভারে জয়ের জন্য হায়দরাবাদের দরকার ছিল ২৯ রান৷ ক্রিজে মনীশ পাণ্ডে ও মহম্মদ নবি৷ এখান থেকে সানরাইজার্সকে সুপার ওভারে পৌঁছে দেন পান্ডে৷

রান তাড়া করতে নেমে মার্টিন গাপ্তিল ও ঋদ্ধিমান সাহার সানরাইজার্সের নতুন ওপেনিং জুটি চার ওভারে ৪০ রান তুলে৷ কিন্ত ওভারের শেষ বলে ঋদ্ধির উইকেট হারিয়ে ধাক্কা খায় সানরাইজার্স৷ ১৫ বলে ২৫ রান করে আউট হন ঋদ্ধি৷ পাওয়ার প্লে-তে দু’ উইকেট হারিয়ে ৫৯ রান তোলে হায়দরাবাদ৷ মনীশ পান্ডে শেষ পর্যন্ত লড়াই করে ম্যাচ সুপার ওভারে পৌঁছে দেন৷ শেষ পর্যন্ত ৪৭ বলে ২টি ছ্ক্কা ও ৮টি বাউন্ডারি মেরে ৭১ রানে অপরাজিত থাকেন পান্ডে৷

‘ডু অর ডাই’ লড়াইয়ে এদিন টস জিতে প্রথম ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স ক্যাপ্টেন রোহিত শর্মা৷ প্রথম তিন ওভারে ১০-এর বেশি রান-রেট থাকলেও পাওয়ার প্লে-র শেষ ওভারে রোহিতের উইকেট হারায় মুম্বাই৷ ১৮ বলে পাঁচটি বাউন্ডারি-সহ ২৪ রান করে ডাগ-আউটে ফেরেন রোহিত৷ খলিল আহমেদের বাউন্সার পুল করতে গিয়ে আউট হন ‘হিটম্যান’৷

এর পর সূর্যকুমার ডি’ককের সঙ্গে মুম্বই ইনিংসেক এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করন৷ কিন্তু ১৭ বলে ২৩ রানে সূর্যকুমারও খলিলের বলেই ডাগ-আউটে ফেরেন৷ এর পর ব্যক্তিগত ১ রানে লুইসকে তুলে নেন নবি৷ তার পর হার্দিক পান্ডিয়া ১০ বলে ১৮ রান করলেও ভুবনেশ্বর কুমারের শিকার হন৷ আগের ম্যাচে নাইটদের বিরুদ্ধে ঝোড়ো ৯২ রানের ইনিংস খেলে ম্যাচ জমিয়ে দেওয়া হার্দিককে ভয়ঙ্কর হয়ে ওঠার আগেই ডাগ-আউটে ফেরান ভুবি৷ অন্য প্রান্তে লড়াই চালিয়ে যান ডি’কক৷

শেষ পর্যন্ত ৬৯ রানে অপরাজিত থাকেন তিনি৷ ৫৮ বলের ইনিংসে ২টি ছক্কা ও হাফ-ডজন বাউন্ডারি মারেন ডি’কক৷ কাইরন পোলার্ডও এদিন বিশেষ সুবিধা করতে পারেননি৷ ৯ বলে ১০ রান করে আউট হন ক্যারিবিয়ান ব্যাটসম্যান৷ শেষ পর্যন্ত ৫ উইকেটে ১৬২ রান তোলে মুম্বাই৷