শ্বাসরুদ্ধকর ম্যাচে জিতে সমতায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ

বাংলাদেশের বিপক্ষে শ্বাসরুদ্ধকর ম্যাচে জিতে সিরিজে সমতায় ফিরেছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। প্রথম ওয়ানডেতে বড় ব্যবধানে হেরে সিরিজে পিছিয়ে থাকা সফরকারীরা শেই হোপের দুর্দান্ত শতকে মঙ্গলবার দ্বিতীয় ওয়ানডেতে জয় তুলে নিয়েছে।

মঙ্গলবার দ্বিতীয় ওয়ানডেতে শের-ই বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে ব্যাটিংয়ে নেমে তিন সিনিয়র ক্রিকেটার তামিম ইকবাল, মুশফিকুর রহিম ও সাকিব আল হাসানের দুর্দান্ত হাফ সেঞ্চুরিতে নির্ধারিত ৫০ ওভার শেষে ৭ উইকেট হারিয়ে ২৫৫ করে বাংলাদেশ। ২৫৬ রানের লক্ষ্যে ব্যাটিংয়ে নেমে ৪ উইকেট হাতে রেখেই জয়ের বন্দরে পৌঁছে যায় সফরকারী ওয়েস্ট ইন্ডিজ।

টাইগারদের দ্বিতীয় ম্যাচেই সিরিজ জয়ের আশাভঙ্গের কারণ হলেন দুর্দান্ত সেঞ্চুরি হাঁকানো শেই হোপ। অপরপ্রান্তে অন্য কোনো ব্যাটসম্যান যোগ্য সঙ্গ না দিতে না পারলেও দাঁতে দাঁত চেপে ২ বল বাকি থাকতে দলকে জয়ের বন্দরে পৌঁছে দিয়েই মাঠ ছাড়েন এই উইন্ডিজ ওপেনার। ফলে সিলেটে অনুষ্ঠেয় শেষ ম্যাচটি এখন সিরিজ নির্ধারণী ম্যাচে পরিণত হলো।

প্রথম ওয়ানডেতে সফরকারী ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে বড় জয় তুলে নেওয়া বাংলাদেশ সিরিজ জয় নিশ্চিত করার লক্ষ্যে মঙ্গলবার দ্বিতীয় ওয়ানডেতে মাঠে নামে। তিন সিনিয়র ক্রিকেটার তামিম ইকবাল, মুশফিকুর রহিম ও সাকিব আল হাসানের দুর্দান্ত হাফ সেঞ্চুরিতে নির্ধারিত ৫০ ওভার শেষে ৭ উইকেট হারিয়ে ২৫৫ করে বাংলাদেশ। এতে ২৫৬ রানের লক্ষ্য পেয়েছে সফরকারীরা।

জবাবে ব্যাটিংয়ে নেমে ১৪৪ বলে ১৪৬ রানের দুর্দান্ত শতক তুলে নিয়ে টাইগারদের স্বপ্নভঙ্গ করে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে সমতায় ফেরান ক্যারিবীয় ওপেনার শেই হোপ।

এর আগে, ফিল্ডিংয়ে নেমেই দ্বিতীয় ওভারে বল করতে এসেই উইন্ডিজ ওপেনার চন্ডরপল হেমরাজকে লেগ বিফোরের ফাঁদে ফেলে বিদায় করেন টাইগার অফ-স্পিনার মেহেদি হাসান মিরাজ। ৬ বল মোকাবেলা করে ৩ রান করে বিদায় নেন তিনি। শুরুর ধাক্কা সামলে এগিয়ে যেতে থাকে উইন্ডিজ। কিন্তু ১৭তম ওভারে বল করতে এসে ক্যারিবীয় ড্যারেন ব্র্যাভোকে (২৭) ফিরিয়ে দলে স্বস্তি ফেরান রুবেল হোসেন। তার বিদায়ে ভাঙে ৬৫ রানের জুটি।

ব্রাভোর বিদায়ের পর মারলন স্যামুয়েলসকে সঙ্গে নিয়ে ক্রমেই বাংলাদেশের হাত থেকে ম্যাচ ছিনিয়ে নিতে থাকেন শেই হোপ। কিন্তু স্যামুয়েলসকে (২৭) ফিরিয়ে ৬২ রানের জুটি ভাঙেন টাইগার পেসার মোস্তাফিজুর রহমান। মুশফিকুর রহিমের ক্যাচ বানিয়ে স্যামুয়েলসকে বিদায় করেন তিনি।

এরপর দ্রুত দুই উইকেট হারায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ। রুবেল হোসেনের আঘাতের পরের ওভারেই বোলিংয়ে এসে উইকেট তুলে নেন টাইগার অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজা। তার করা ইনিংসের ৩৪তম ওভারের চতুর্থ বলে সৌম্য সরকারের হাতে ক্যাচ তুলে দিয়ে ফিরেন উইন্ডিজ অধিনায়ক রোভম্যান পাওয়েল (১)।

এর আগে উইন্ডিজের বিধ্বংসী ব্যাটসম্যান শিমরন হেটমায়ারকে (১৪) বদলি ফিল্ডার নাজমুল হাসানের সহজ ক্যাচে পরিণত করে ফেরান টাইগার পেসার রুবেল হোসেন। এরপর মুস্তাফিজের কাটারে মিড অনে তামিমের হাতে ধরা পড়েন ১৬ বলে ৮ রান করা রোস্টন চেইস। এতে ওয়েস্ট ইন্ডিজ শিবিরে হারের শঙ্কা তৈরি হয়। কিন্তু শঙ্কা পেছনে ফেলে ম্যাচ জেতানো সপ্তম উইকেট জুটিতে হোপকে দারুণ সঙ্গ দেন পল। অবিচ্ছিন্ন জুটিতে ৬৪ বলে তারা করেন ৭১ রান। এরই মাঝে ১৪৬ রানের দুর্দান্ত ইনিংস খেলেন শেই হোপ। এছাড়া কিমো পল অপরাজিত থাকে ১৮ রানে।

মুস্তাফিজুর রহমান ও রুবেল হোসেন নেন ২টি করে উইকেট। এছাড়া মাশরাফি বিন মর্তুজা ও মেহেদী হাসান মিরাজ পান ১টি করে উইকেট।

এর আগে, শের-ই বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে ব্যাটিংয়ে নেমে তিন সিনিয়র ক্রিকেটার তামিম ইকবাল, মুশফিকুর রহিম ও সাকিব আল হাসানের দুর্দান্ত হাফ সেঞ্চুরিতে নির্ধারিত ৫০ ওভার শেষে ৭ উইকেট হারিয়ে ২৫৫ করে বাংলাদেশ। একসময় বাংলাদেশের আরও বড় স্কোরের সম্ভাবনা জাগলেও শেষ দিকে রান আসেনি প্রত্যাশিত দ্রুততায়। মাশরাফি ও মিরাজ শেষ ২ ওভার থেকে নিতে পেরেছেন কেবল ৫ রান। শেষ ৫ ওভারে এসেছে মাত্র ২৬ রান।

প্রথম ওয়ানডের মতো দ্বিতীয় ম্যাচেও টস জিতে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। তবে সেই ম্যাচে আগে ব্যাট করে হেরে যাওয়ার পর এবার বাংলাদেশকে ব্যাটিংয়ে পাঠায় ক্যারিবিয়ান অধিনায়ক রভম্যান পাওয়েল। ব্যাটিংয়ে নেমে ইনিংসের শুরুতেই গোড়ালিতে চোট পেয়ে মাঠ ছাড়েন লিটন। এতে তৃতীয় উইকেটে নামা ইমরুল টিকতে পারেননি। থমাসের পরের ওভারে ব্যক্তিগত শূন্য রানে বিদায় নেন তিনি। ফলে চাপে পড়ে বাংলাদেশ। তবে মুশফিক-তামিমের দুর্দান্ত শতরানের জুটিতে ঘুরে দাঁড়ায় টিম বাংলাদেশ। একই সঙ্গে এই জুটির মাধ্যমে ওয়ানডেতে দেশের হয়ে সবচেয়ে বেশি শতরানের জুটি গড়ার রেকর্ডে নাম লেখান তারা। ২৪তম ওভারে তামিমের বিদায় দিয়ে ভাঙে ১১১ রানের চমৎকার জুটি। ওয়ানডেতে এটি তাদের পঞ্চম শতরানের জুটি। পরে টানা দুই ম্যাচে ফিফটি তুলে নেওয়া মুশফিকুর রহিম আউট হন ৮০ বল খেলে ৫ চারে ৬২ রানের ইনিংস খেলে।

এরপরে সাকিব আল হাসানের ৬২ বলে ৬টি চার ও একটি ছক্কায় সর্বোচ্চ ৬৫ রান দলকে বড় সংগ্রহের পথ দেখায়। কিন্তু দ্রুত রান তুলতে গিয়ে তিনি আউট হলে সেভাবে কেউ রানের চাকা সচল রাখতে পারেননি। সাকিব আল হাসানের সঙ্গে চতুর্থ উইকেট জুটিতে কার্যকরী ৬১ রানের পার্টনারশিপ গড়লেও মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ ৫১ বলে ৩টি চারের সাহায্যে ৩০ রান করে রোভম্যান পাওয়েলের বলে বিদায় নেন। পরে দ্রুত বিদায় নেন সৌম্য সরকার। ওশানে টমাসের করা বলে থার্ডম্যান অঞ্চলে বিশুর হাতে ক্যাচ তুলে দেন তিনি। ৮ বলে ব্যক্তিগত ৬ রান করেন তিনি।

এছাড়া মাশরাফি ও মিরাজ শেষ ২ ওভার থেকে নিতে পেরেছেন কেবল ৫ রান। শেষ ৫ ওভারে এসেছে মাত্র ২৬ রান। ফলে নির্ধারিত ৫০ ওভার শেষে ৭ উইকেট হারিয়ে ২৫৫ করে বাংলাদেশ।

বাংলাদেশের বিপক্ষে শ্বাসরুদ্ধকর ম্যাচে জিতে ওয়েস্ট ইন্ডিজ সমতায় ফেরায় আগামী শুক্রবার সিলেটে শেষ ওয়ানডেতে হবে সিরিজের ফয়সালা।