শচীনের জন্মদিনে ফিরে দেখা তাঁর অমর সব কীর্তি

আজ ২৪ এপ্রিল। ৪৬ বছরে পা দিলেন শচীন তেণ্ডুলকর। বাইশ গজকে বিদায় জানানোর এতগুলো বছর পরেও ‘ক্রিকেটের ঈশ্বর’ পূজিত হচ্ছেন ভক্তদের মনে। আধুনিক ক্রিকেটের ডনের জন্মদিন পালিত হচ্ছে দেশ জুড়ে।

আজ ২৪ এপ্রিল। ৪৬ বছরে পা দিলেন শচীন টেণ্ডুলকর। বাইশ গজকে বিদায় জানানোর এতগুলো বছর পরেও ‘ক্রিকেটের ঈশ্বর’ পূজিত হচ্ছেন ভক্তদের মনে। আধুনিক ক্রিকেটের ডনের জন্মদিন পালিত হচ্ছে দেশ জুড়ে। সোশাল মিডিয়ার ভাষায় তিনিই গোট, গ্রেটেস্ট অফ অল টাইম (Greatest of All Time, G.O.A.T.)।

১৯৮৯ সালে মাত্র ১৬ বছর বয়সে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেক করেন মাস্টারব্লাস্টার। দেখতে ২৪টা বছর তিনি কাটিয়ে বাইশ গজকে বিদায় জানান ২০১৩ সালে। ক্রিকেটের ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে খোদাই করে লেখা আছে তাঁর নাম। বর্ণাঢ্য কেরিয়ারে অজস্র রেকর্ড ভেঙে নতুন মাইলস্টোন তৈরি করেছেন। সেঞ্চুরির সেঞ্চুরির মালিকের সেরকমই কয়েটি কীর্তির কথা তুলে ধরা হল এই বিশেষ দিনে। আসমুদ্র হিমাচলে এখনও ধ্বনিত হয় “শচীন…শচীন!”

১) শচীনই একমাত্র ক্রিকেটার যার ১০০টি সেঞ্চুরি রয়েছে। টেস্টে ৫১টি এবং ওয়ান-ডে ক্রিকেটে ৪৯টি। যে সংখ্যা আজও কেউ স্পর্শ করতে পারেননি। এমনকি শচীনই একমাত্র ক্রিকেটার যাঁর পঞ্চাশটি অর্ধ-শতক রয়েছে।

২) টেস্টে এবং ওয়ান-ডে ফর্ম্যাট মিলিয়ে সর্বোচ্চ রানের মালিক তিনি। টেস্টে ১৫, ৯২১ রান করেছেন তিনি। পঞ্চাশ ওভারের ফর্ম্যাটে করেছেন ১৮,৪২৬ রান। একমাত্র ক্রিকেটার হিসেবে ক্রিকেটের তিন ফর্ম্যাট মিলিয়ে ৩০ হাজার রান করেছেন তিনি।

৩) শচীনই সবচেয়ে বেশি টেস্ট (২০০) ও আন্তর্জাতিক ওয়ান-ডে ম্যাচ (৪৬৩) খেলেছেন।

৪) টেস্টে ক্রিকেটে ২০ বার ১৫০ প্লাস স্কোরার নজির রয়েছে শচীনের। এটাও একটা রেকর্ড

৫) শচীনই একমাত্র ক্রিকেটার যিনি আইসিসি- প্রতিটি পূর্ণ সদস্য দেশ যারা টেস্ট খেলে, তাদের বিরুদ্ধে শতরান করেছেন।

৬) শচীন একমাত্র সংযুক্ত আরব আমিরশাহি, নেদারল্যান্ডস ও বারমুডার বিরুদ্ধে ওয়ান-ডে ক্রিকেটে ম্যান অফ দ্য ম্যাচ হতে পারেননি। এছাড়া বাকি সবার বিরুদ্ধে তাঁর এই কৃতিত্ব রয়েছে।

৭) শচীন এক ক্যালেন্ডার বর্ষে ৬ বার টেস্টে ১০০০ রান করেছেন। ১৯৯৭, ১৯৯৯, ২০০০, ২০০১, ২০০২, ২০০৮ ও ২০১০ সালে এই নজির গড়েন তিনি।

৮) শচীন ১৭ বছর ১৯৭ দিনের মাথায় প্রথম টেস্ট সেঞ্চুরি করেছিলেন। এত অল্প বয়সে কোনও ভারতীয় টেস্ট সেঞ্চুরি করতে পারেননি।

৯) রাহুল দ্রাবিড়ের সঙ্গে জুটি বেঁধে শচীন ২০ বার হানড্রেড প্লাস পার্টনারশিপ করেছেন টেস্টে। কোনও জুটির পক্ষে ক্রিকেটের দীর্ঘতম ফর্ম্যাটে এটি বিশ্বরেকর্ড।

১০) শচীন ৫১টি টেস্ট সেঞ্চুরির মধ্যে ২২টি ঘরের মাঠে ও ২৯টি বিদেশের মাটিতে করেছেন। বিদেশের মাটিতে এত সংখ্যক টেস্ট সেঞ্চুরি কারোর নেই।

১১) এই গ্রহের প্রথম ক্রিকেটার হিসেবে ওয়ান-ডে ক্রিকেটে দ্বিশতরান করেন শচীন

১২) ১৯৯৮ সালে শচীন ১৮৯৪ রান করেছিলেন। এক ক্যালেন্ডার বর্ষে এত রান আর কেউ করতে পারেননি।

১৩) ১৯৯৮ সালে শচীন ৯টি সেঞ্চুরি করেছিলেন। এক বছরে আর কেউ এত সেঞ্চুরি করতে পারেননি।

১৪) একক প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ সেঞ্চুরি করেছেন শচীন। অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে ৯বার ওয়ান-ডে শতরান করেছেন তিনি।

১৫) ওয়ান-ডে ফর্ম্যাটে শচীন ২০১৬টি চার মেরেছেন। এত বেশি চার আর কেউ মারতে পারেননি। শচীন তাঁর ২০০ রানের ইনিংসে ২৫টি চার মেরেছিলেন। এক ইনিংসে এত চার মারারাও রেকর্ডব নেই কারোর।

১৬) সবচেয়ে বেশিবার ম্য়াচের সেরা হয়েছেন শচীন। ৬২ বার ম্য়ান অফ দ্য ম্যাচ হয়েছেন তিনি। এমনকি বিশ্বকাপেও সর্বাধিক ৯ বার ম্যান অফ দ্য ম্যাচ হন তিনি। ম্যান অফ দ্য সিরিজ হয়েছেন ১৫বার। এটাও সর্বোচ্চ। দেখতে গেলে সর্বোচ্চ প্লেয়ার অফ দ্য ম্য়াচ (৭৬ বার) ও প্লেয়ার অফ দ্য সিরিজ (২০) হয়েছেন তিনি।

১৭) ১৯৯০ থেকে ১৯৯৮ পর্যন্ত টানা ১৮৫টি আন্তর্জাতিক ওয়ান-ডে খেলেছেন তিনি। এটাও রেকর্ড।

১৮) টপ অর্ডারে শচীন এবং সৌরভ গঙ্গোপাধ্য়ায় ওপেন করতে নেমে ২৬ বার হানড্রেড প্লাস পার্টনারশিপ করেছেন। এর মধ্যে ২১বার জুটি বেঁধে শতরানের পার্টনারশিপ করেছেন ওপেন করতে নেমে। দু’টোই রেকর্ড।

১৯) শচীন-সৌরভ জুটি বেঁধে ৮২২৭ রান করেছেন। ওপেন করতে নেমে ৬৬০৯ রান পেয়েছেন। দু’টোই মাইলস্টোন।

২০) শচীন ৯০টি ভেন্যুতে ক্রিকেট খেলেছেন। যা আর কেউ করেননি।

২১) শচীন অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে ৩০৭৭ ও শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে ৩১১৩ রান করেছেন। সব ফর্ম্যাট মিলিয়ে আর কেউ শচীনের চেয়ে বেশি অজিদের বিরুদ্ধে রান করতে পারেননি।

২২) শচীন ২০ বছর হওয়ার আগেই টেস্টে পাঁচবার সেঞ্চুরির স্বাদ পেয়েছিলেন।

২৩) ২০১১-তে শেষবার বিশ্বকাপ খেলেন শচীন। ক্রিকেটের মেগাইভেন্টে তাঁর ২২৭৮ রান রয়েছে। এত রান আর কেউ করতে পারেননি।

২৪) বিশ্বকাপে সর্বাধিক ৬টি সেঞ্চুরি ও ২১টি ফিফটি প্লাস রান করেছেন।

২৫) ২০০৩ বিশ্বকাপে শচীন সাতবার ফিফটি করেছিলেন। টুর্নামেন্টে পেয়েছিলেন ৬৭৩ রান।

২৬) পাকিস্তানের জাভেদ মিঁয়াদাদ আর শচীন সবচেয়ে বেশিবার বিশ্বকাপ খেলেছেন। দু’জনেই ৬ বার খেলেছেন।

২৭) শচীন একমাত্র ক্রিকেটার যিনি রঞ্জি, দলীপ এবং ইরানি ট্রফির অভিষেকে সেঞ্চুরি করেন।

২৮) ১৯৯০-৯১ সালে প্রথম বিদেশি ক্রিকেটার হিসেবে ইয়র্কশায়ারে খেলেন তিনি।

২০১৪ সালে শচীন প্রথম ভারতীয় ক্রীড়াব্য়ক্তিত্ব হিসেবে ভারতরত্ন সম্মানে ভূষিত হন। এর আগে কোনও ক্রীড়াবিদ এই সম্মান পাননি। প্রাক্তর রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখোপাধ্যায় তাঁকে এই সম্মান তুলে দিয়েছিলেন। এছাড়াও শচীন অর্জুন পুরস্কার, রাজীব গান্ধী খেলরত্ন, পদ্মশ্রী ও পদ্মবিভূষণেও ভূষিত হয়েছেন