পাক হানায় ধরাশায়ী স্বাগতিক ইংল্যান্ড

চলতি বিশ্বকাপে প্রথমবার দেখা গেল ব্যাটে-বলের দুর্দান্ত ঝলক। এতদিন যে ক’টি ম্যাচ হয়েছে, তার বেশিরভাগগুলোই ছিল কার্যত একপেশে। অন্তত খেলা খানিকটা গড়ানোর পরই ম্যাচের ভবিষ্যৎ আন্দাজ করা গিয়েছিল। কিন্তু সোমবার একটি রুদ্ধশ্বাস ম্যাচের সাক্ষী থাকলেন নটিংহ্যামে হাজির দর্শকরা। শেষ ওভার পর্যন্ত টানটান উত্তেজনা। যে কোনও মুহূর্তে অঘটন ঘটার আশঙ্কা। আর দিনের শেষে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই জিতে তৃপ্তির হাসি ফুটল পাক ক্রিকেটারদের মুখে।

শেষ ১১ ওয়ানডে একটিতেও জয়ের মুখ দেখেনি পাকিস্তান। যার মধ্যে সম্প্রতি ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে ০-৪ ব্যবধানে সিরিজও হারেন সরফরাজরা। তার উপর বিশ্বকাপ অভিযানের শুরুতেই ওয়েস্ট ইন্ডিজের কাছে মুখ থুবড়ে পড়েছিল পাক দল। উলটোদিকে আবার ম্যাচ শুরুর আগে ইংলিশ অধিনায়ক ইয়ন মর্গ্যান হুঙ্কার দিয়ে রেখেছিলেন, আগে ব্যাট করলে ৫০০ রানও তোলার চেষ্টা করবে তাঁর দল। দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে মর্গ্যানবাহিনীর ক্ষুরধার পারফরম্যান্স নিয়েও তো নতুন করে বলার কিছু নেই। তাছাড়া হারের জেরে পাক দলকে নিয়ে মশকরারও শেষ নেই নেটিজেনদের। এমন পরিস্থিতিতে এবারের টুর্নামেন্টের অন্যতম ফেভরিট সেই ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে নার্ভ শক্ত করে লড়াইয়ে নামাটা নেহাত সহজ ছিল না আমির-বাবরদের কাছে। কিন্তু ১০৫ রানে অল আউট হওয়ার দুঃসহ স্মৃতি ভুলিয়ে নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচেই যেভাবে ঘুরে দাঁড়াল পাকিস্তান, তার প্রশংসা করতেই হয়।

স্কোরবোর্ডে প্রায় সাড়ে তিনশো রান একেবারেই খারাপ নয়। লড়াই দেওয়ার পক্ষে যথেষ্ট। যদিও সেই রানের প্রায় কাছাকাছিই পৌঁছে গিয়েছিল ইংল্যান্ড। সৌজন্যে দুই ব্যাটসম্যান, জো রুট এবং জস বাটলার। দুজনেই দুর্দান্ত সেঞ্চুরি হাঁকান। এবারের বিশ্বকাপে প্রথম সেঞ্চুরির মালিক হয়ে গেলেন রুট। কিন্তু আফসোস একটাই। দলকে জেতাতে পারলেন না। কাজে এল না তাঁদের চোখ ধাঁধানো ইনিংস। শাদাব-আমির-রিয়াজরা যেন এদিন প্রতিজ্ঞাই করে নেমেছিলেন, না জিতে মাঠ ছাড়বেন না। তাঁদের বোলিংয়েও সেই ট্র্যাডিশনাল পাক আগ্রাসন ছিল স্পষ্ট।

তবে পাকিস্তানের ভিতটা শক্ত করে দিয়েছিল পাক টপ-অর্ডার। ফখর জামান, ইমাম, বাবর, হাফিজ, অধিনায়ক সরফরাজ, প্রত্যেকেই ভাল খেলেন। আর তাতেই অতীতের হারের মধুর প্রতিশোধ নিতে সফল পাকিস্তান। ইমরান খানের দেশকে যে ‘আন্ডারডগ’ ভাবা ভুল হবে, সেটাই মনে করিয়ে দিল সরফরাজ অ্যান্ড কোং। এদিন ইংল্যান্ড পয়েন্ট নষ্ট করতেই জমে গেল বিশ্বকাপের লড়াই।

ইংল্যান্ড এই রান তাড়া করে জিতলে বিশ্বকাপে তা রেকর্ড হতো৷ ২০১১ বিশ্বকাপে চিন্নাস্বামীতে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে আয়ারল্যান্ড ৩২৭ রান তাড়া করে ম্যাচ জিতেছিল৷ বিশ্বকাপের ইতিহাসে এটাই সর্বোচ্চ রান তাড়া করে জয়ের রেকর্ড৷ রুদ্ধশ্বাস লড়াই করেও সেই জয় হাসিল করতে পারল না ইংল্যান্ড।

পাকিস্তান: ৩৪৮/৮ (বাবর-৬৩, হাফিজ-৮৪)
ইংল্যান্ড: ৩৩৪/৯ (রুট-১০৭, বাটলার-১০৩)
পাকিস্তান ১৪ রানে জয়ী পাকিস্তান

https://twitter.com/cricketworldcup/status/1135604566127468544