এজন্যই ওকে এত বেশি ভালো লাগে: বিরাট

বৃহস্পতিবার আইসিসির বিশেষ আয়োজনে উপস্থিত ছিলেন বিশ্বকাপে অংশ নিতে যাওয়া সব দলের অধিনায়ক। এসময় আড্ডা-মাস্তি আর হাসি-ঠাট্রায় মঞ্চ মাতিয়েছেন দলপতিরা। প্রত্যেকেই শুনিয়েছেন আসন্ন বিশ্বকাপের আগমনী বার্তা। আয়োজনের এক পর্যায়ে মজার এক প্রশ্নে মেতে উঠেন অধিনায়কেরা।

প্রতিপক্ষের কোন ক্রিকেটারকে নিজ দলে চান? এমন প্রশ্নের জবাবে প্রত্যেকেই আলাদা আলাদা করে পছন্দের কথা জানান। মাশরাফি বলেছেন বিরাট কোহলির কথা। কোহলি নিজে বলেছেন ফাফ ডু প্লেসির কথা। ফাফ ডু প্লেসি অবশ্য বেশ কয়েকজনকে নিতেন, পেসার হিসেবে বুমরাহ, স্পিনার হিসেবে অবশ্যই রশিদ খান। কেন উইলিয়ামসনও নিশ্চিত করেছেন দলে ইশ সোধি থাকলেও সম্ভব হলে নিউজিল্যান্ডের জার্সিতে রশিদকে পেতে তারও ইচ্ছা জাগে। আইপিএলে দুজন একসঙ্গে খেলেন সানরাইজার্স হায়দরাবাদে, নিউ জিল্যান্ড অধিনায়ক এবার ছিলেন হায়দরাবাদের অধিনায়কও। রশিদের জাদুকরী বোলিং একদম কাছ থেকেই দেখেছেন!

রশিদকে ব্যাপক পছন্দ কোহলিরও। নিজ দলে দুইজন স্পিনার আছে। তাই হয়তো আর রশিদকে তার দরকার হচ্ছে না। কিন্তু রশিদকে প্রতিপক্ষ হিসেবে পেতেও খুব একটি আগ্রহী নন তিনি। তিন বছর ধরে খেলেও যে রশিদ-রহস্য উন্মোচন করতে পারছেন না কোহলিরা, ‘আমি ওকে তিন বছর ধরে আইপিএলে বল করতে দেখছি। এবারই প্রথম আমি ওকে খেলেনি। এটা দুর্ভাগ্যজনক কারণ রশিদও বলেছে, ও আমার বিপক্ষে বল করার অপেক্ষায় ছিল। আমি ওর বিপক্ষে ব্যাট করতে মুখিয়ে ছিলাম। তিন বছরে এই প্রথম আমি বাইরে বসে ওর কোন বল কেমন হবে সেটা বলার চেষ্টা করেছি। ১০ বারের মধ্যে নয়বার সঠিক বলতে পেরেছি। তিন বছরে এই প্রথম! সে এতটাই ভালো।’

এরপরই বর্তমানের অন্য সব লেগ স্পিনার থেকে রশিদ কেন আলাদা সেটা ব্যাখ্যা করেছেন ভারত অধিনায়ক, ‘সে অসাধারণ। তার স্কিল সেট দারুণ। ওর বলের গতিটাই ওকে আলাদা করে দেয়। ওর ভ্যারিয়েশনও খুবই সূক্ষ্ম। সে কোনো সময়ই দেয় না বল বোঝার। ফ্লাইটের বলও ব্যাটে এত দ্রুত আসে! কিছু বুঝে ওঠার আগেই প্যাডের ফাঁক দিয়ে যায়, এলবিডব্লু বা বোল্ড হয়ে যায় ব্যাটসম্যান।’

মাঠে খুবই আগ্রাসী আচরণ করেন কোহলি। দলকে নেতৃত্ব দেওয়ার সময় শরীরী ভাষায় আক্রমণ ফুটে ওঠে সব সময়। রশিদ খানও মাঠে খুবই আগ্রাসী। গত এশিয়া কাপে ভারতের বিপক্ষে টাই হওয়া ম্যাচে ও পাকিস্তানের সঙ্গ একদম শেষ মুহূর্তে হারের ম্যাচে তার আচরণ আলাদাভাবে চোখে পড়েছে। রশিদের এই নিবেদন, এই আগ্রাসন খুবই ভালো লাগে কোহলির। এ জন্যই রশিদকে এত ভালো লাগে কোহলির, ‘ওর মধ্যে ফাস্ট বোলারের সেই আগ্রাসী মনোভাবটা আছে। একজন স্পিনারের মধ্যে এটা দেখা খুবই বিরল। আমি প্রতিদ্বন্দ্বী মনোভাবের লোক পছন্দ করি। এবং ওর আচরণ আমার দারুণ লাগে। ওর জন্য শুভকামনা।